রবিবার ২৬ এপ্রিল ২০২৬ - ১৩:০২
ইরানের সাথে যুদ্ধে ইসরাইলের জ্বালানি সংকট

ইরানের সাথে যুদ্ধে ইসরাইলের জ্বালানি সংকট

রপ্তানি বন্ধ থেকে বিনিয়োগকারীদের পলায়ন

একটি জায়নবাদী গণমাধ্যম প্রকাশ করেছে যে, ইরানের সাথে যুদ্ধ ইসরাইলের জ্বালানি খাতে, বিশেষ করে রপ্তানি খাতে, একটি বড় সংকট সৃষ্টি করেছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকা ও জায়নবাদী শাসনের ইরান বিরোধী যুদ্ধ এবং আমাদের দেশের (ইরানের) বিভিন্ন স্তরে আগ্রাসনকারীদের বিরুদ্ধে জবাবি হামলার ফলে অঞ্চল ও বিশ্বে যে বড় জ্বালানি সংকট স্পষ্ট হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে ইসরাইলি প্রতিবেদনগুলি মিশর ও জর্ডানের ইসরাইল ও আমেরিকার উপর চাপ বৃদ্ধির কথা প্রকাশ করেছে। বিদ্যুৎ গ্রিডের পতনের আশঙ্কার মধ্যেই তারা 'তামার' গ্যাস প্ল্যাটফর্ম থেকে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু করার দাবি জানাচ্ছে।

ইরানের আওতায় থাকা তামার গ্যাস প্ল্যাটফর্মের কৌশলগত গুরুত্ব

হিব্রু দৈনিক 'ইদিওথ আহারোনথ' এই প্রসঙ্গে একটি নিবন্ধে জায়নবাদী শাসনের জ্বালানি সংকট পর্যালোচনা করেছে যা ইরানের সাথে যুদ্ধের ফলে সৃষ্টি হয়েছে এবং এই যুদ্ধ কীভাবে ইসরাইলের তামার গ্যাস প্ল্যাটফর্ম থেকে মিশরে গ্যাস সরবরাহ হুমকির মুখে ফেলেছে।

নিবন্ধটির বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

আজ তেল আবিবের জ্বালানি খাত টানা রকেট হামলার মধ্যে ৪০ দিনের যুদ্ধের প্রভাব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। সরাসরি আঘাতের আশঙ্কায় লেভিয়াথান ও কারিশ প্ল্যাটফর্মগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে; এই পদক্ষেপ ইসরাইলের অর্থনীতিতে কয়েক বিলিয়ন ডলার ক্ষতি করেছে, অন্যদিকে তামার প্ল্যাটফর্ম একাই মাঠে টিকে ছিল।

ইসরাইলি সাংবাদিকরা যারা তামার গ্যাস প্ল্যাটফর্ম পরিদর্শন করেছেন, তারা সমুদ্রে তীব্র উত্তেজনার কথা শুনেছেন এবং সেই কর্মীদের সাথে কথা বলেছেন যারা বিপদ সত্ত্বেও সেখানে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।

প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এবং ২০১৩ সালে চালু হওয়া তামার প্ল্যাটফর্মটি এই সময়ের মধ্যে ইসরাইলের জ্বালানি খাতের কেন্দ্রীয় স্তম্ভে পরিণত হয়েছিল এবং যুদ্ধকালীন সময়ে এটি একাই ইসরাইলের সমস্ত গ্যাসের চাহিদা মেটায়, যার ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়।

এই প্ল্যাটফর্মটি আমেরিকার বিশাল জ্বালানি কোম্পানি শেভরন দ্বারা পরিচালিত হয় এবং প্রায় ৪০ জন প্রশিক্ষিত কর্মীর একটি দল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, যার মধ্যে আমেরিকান ও ইসরাইলি প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ এবং সিস্টেম অপারেটর রয়েছে।

তামার গ্যাস প্ল্যাটফর্মের এক কর্মী নিশ্চিত করেছেন যে, যখন একটি ড্রোন কাছে আসে, তারা জানতে পারে যে এটি এই প্ল্যাটফর্মে আঘাত হানার জন্য নির্দেশিত হয়েছে এবং সেই অবস্থায় জরুরি ব্যবস্থা সঙ্গে সক্রিয় হয়ে ওঠে, গ্যাস প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পাইপলাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এই কার্যক্রম প্ল্যাটফর্ম ও সমুদ্রতলদেশে স্থাপিত স্বয়ংক্রিয় ভালভের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যাদের কাজ হলো গ্যাসকে জলাধার এবং সাবমেরিন পাইপের মধ্যে আটকে রাখা, যা জ্বলনশীল গ্যাসের বিশাল লিক প্রতিরোধ করে। এমনকি যদি প্ল্যাটফর্মটি নিজেই শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তও হয়, তাহলেও সেই লিক একটি বড় বিস্ফোরণ এবং অভূতপূর্ব ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে পারে।

এই ক্ষমতা জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং শেভরন কোম্পানিকে দ্রুত প্রতিরোধমূলক বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে দেয় যখনই প্ল্যাটফর্মের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে বলে সন্দেহ হয়; সম্প্রতি যুদ্ধের সময় এটি কয়েকবার ঘটেছে।

কিন্তু লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ, যেমন মানুষজন প্রবেশ ও প্রস্থানের প্রক্রিয়া এবং বিদেশি ঠিকাদারদের আনা, খুবই ব্যয়বহুল এবং এছাড়াও কর্মী ও ঠিকাদারদের বোঝানো যে তামার প্ল্যাটফর্মটি নিরাপদ, সেটির জন্যও প্রচুর প্রচেষ্টার প্রয়োজন।

শেভরন কোম্পানি সারা বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে কাজ করে এবং বৈশ্বিক ঠিকাদারদের সাথে অত্যন্ত শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে, তবুও ৭ অক্টোবর থেকে অনেক বিদেশি ঠিকাদার ইসরাইল (অধিকৃত ফিলিস্তিন) আসতে ইচ্ছুক ছিল না। অবশেষে, একটি বিশ্বস্ত কোম্পানি হিসেবে শেভরনের সুনামের কারণে, তারা আসতে রাজি হয় এবং যুদ্ধের সময় ১৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পাইপলাইন স্থাপন করে, যা তাদের তামারের সর্বোচ্চ উৎপাদনে পৌঁছাতে সক্ষম করে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha